Home » জাতীয় » হরতাল আর কার্যকর নয় বাংলাদেশে
capture

হরতাল আর কার্যকর নয় বাংলাদেশে

হরতাল পালন করতে গিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংসতায় নিহত মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয় বাংলাদেশে। শুধু কি মানুষের প্রাণনাশ? শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকত দিনের পর দিন, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি ছিল আকাশসম। সেই হরতাল নামের রাজনৈতিক হাতিয়ার বাংলাদেশে এর কার্যকারিতা হারিয়েছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, বাংলাদেশে এখন আর হরতাল হয়না। তার চেয়ে বলা ভালো, জনগণ এখন আর রাজনৈতিক দলের হরতাল কর্মসূচিতে সাড়া দেয়না। গাড়ির মালিকরাও আর হরতালকে ভয় পাননা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক নানা অরাজকতার মধ্যেও ‘হরতাল’ সংস্কৃতির গ্রহণযোগ্যতা হারানো বাংলাদেশের এক বিরাট অর্জন। রাষ্ট্র বিশেষজ্ঞরা হরতাল-নির্ভর রাজনৈতিক সংস্কৃতির এই বিরল ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য  সাধারণ জনগণ, ব্যবসায়ী এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন।বাকি আছে শুধু আইন করে হরতাল বন্ধ করা। আইন করে হরতাল সংস্কৃতি বন্ধ করতে পারলে, বাংলাদেশের রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে স্থায়ীভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আইন করে বন্ধ করা এ জন্য জরুরী যে, প্রচলিত আইনে হরতাল ডাকা এবং পালন করা বেআইনি কিছু নয়। ফলে আইন করে হরতাল বন্ধ করা নির্ভর করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তের উপর।

পরাধীনতার যুগে স্বাধীকার ও স্বাধীনতা অর্জনের আন্দোলনের অন্যতম কঠোর কর্মসূচি ছিল হরতাল। অনেকক্ষেত্রে হরতাল না ডেকে অসহযোগ কিংবা অবরোধের নাম দিয়েও রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করার সংস্কৃতি চালু হয়।

ইতিহাসের অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে, উপমহাদেশে সর্বপ্রথম হরতাল সংস্কৃতির চর্চা শুরু করেন ভারতের মোহনচাঁদ করম চাঁদ গান্ধী। তাঁর মাতৃভাষা গুজরাটি শব্দ হরতাল পরে পুরো উপমহাদেশে পরিচিত হয়ে উঠে।

মোহনচাঁদ গান্ধী ১৯১৯ সালের ৬ এপ্রিল প্রথমে ব্রটিশ সরকারের বিরুদ্ধে হরতালের ডাক দেন।  ব্রিটিশের বিরুদ্ধে এরপর সর্ব ভারতীয় পর্যায়ে আরও কয়েকটি হরতাল পালিত হয়। এর মধ্যে ছিল ১৯৪৬ সালের ২৯ জুলাইয়ের সাধারণ ধর্মঘট বা হরতাল।  বাকি আছে শুধু আইন করে হরতাল বন্ধ করা। আইন করে হরতাল সংস্কৃতি বন্ধ করতে পারলে, বাংলাদেশের রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে স্থায়ীভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আইন করে বন্ধ করা এ জন্য জরুরী যে, প্রচলিত আইনে হরতাল ডাকা এবং পালন করা বেআইনি কিছু নয়। ফলে আইন করে হরতাল বন্ধ করা নির্ভর করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তের উপর।

পরাধীনতার যুগে স্বাধীকার ও স্বাধীনতা অর্জনের আন্দোলনের অন্যতম কঠোর কর্মসূচি ছিল হরতাল। অনেকক্ষেত্রে হরতাল না ডেকে অসহযোগ কিংবা অবরোধের নাম দিয়েও রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করার সংস্কৃতি চালু হয়।

ইতিহাসের অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে, উপমহাদেশে সর্বপ্রথম হরতাল সংস্কৃতির চর্চা শুরু করেন ভারতের মোহনচাঁদ করম চাঁদ গান্ধী। তাঁর মাতৃভাষা গুজরাটি শব্দ হরতাল পরে পুরো উপমহাদেশে পরিচিত হয়ে উঠে।

মোহনচাঁদ গান্ধী ১৯১৯ সালের ৬ এপ্রিল প্রথমে ব্রটিশ সরকারের বিরুদ্ধে হরতালের ডাক দেন।  ব্রিটিশের বিরুদ্ধে এরপর সর্ব ভারতীয় পর্যায়ে আরও কয়েকটি হরতাল পালিত হয়। এর মধ্যে ছিল ১৯৪৬ সালের ২৯ জুলাইয়ের সাধারণ ধর্মঘট বা হরতাল।পাকিস্তান আমলেও হরতাল রাজনৈতিক নানা দাবি আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ দাবিতে সর্বপ্রথম সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। এটাই ছিল ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তথা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এ দেশে প্রথম সফল হরতাল।

বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪৭ দিন জাতীয়ভাবে হরতাল পালিত হয়েছে এর মধ্যে শুধু মাত্র ঢাকায় ১৩দিন হরতাল হয়। বেশির ভাগ হরতাল হয়েছে ১৯৬৬ সালের ছয় দফা থেকে শুরু করে ১৯৭০ সালের মার্চ পর্যন্ত।এ সময় নিহত সাধারণ মানুষের সংখ্যা খুব কম ছিল।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয়ভাবে হরতাল হয়েছে মাত্র পাঁচ দিন। এসময়ে নিহত হয় ১ জন , আহত হয় ৩১২ জন এবং গ্রেপ্তার হয় প্রায় ৯০৭ জন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৮২ সালের ২৩ মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে হরতাল হয় ৫৯ বার। তখন নিহত হয় ৬ জন , আহত হয় ৫১৮ জন, গ্রেপ্তার হয় ৩১১ জন।

বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউট’র এক গবেষণা থেকে জানা যায়, ১৯৮২ সালে সামরিক শাসক এরশাদ ক্ষমতায় আসার পর হরতালের প্রবণতা বেড়ে যায় ।১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে হরতাল হয় ৩২৮দিন। এরমধ্যে শুধু ১৯৮২ সালের মার্চ থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭২ দিন জাতীয়ভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। ১৯৮২-৯০ সালে নিহত হয় ১০৯ জন, আহত হয় ২৫৬২ জন, গ্রেপ্তার হয় ৩৫৮৬ জন।

এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। ১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তখনকার বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের অভিযোগে ১৪ সেপ্টেম্বর হরতাল পালন করে আওয়ামী লীগ। ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল বিএনপি।

১৯৯০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত জাতীয়ভাবে ৮১ দিন, ঢাকায় ও আঞ্চলিকভাবে ৬৯, স্থানীয়ভাবে ২৬৬ দিনসহ মোট ৪১৬ দিন হরতাল পালিত হয়। কিন্তু ওই সময়ের বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ১৭৩ দিন হরতাল করেছে বলে দাবি করা হলেও সংবাদপত্র ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই দাবির সত্যতা মেলেনি ।

এক সময় যে হরতাল ছিল স্বাধিকার আদায়ের হাতিয়ার, স্বাধীন দেশে সে হরতাল হয়ে যায় রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের মধ্যকার হানাহানির অন্যতম উপলক্ষ।  ১৯৯০-৯৬ সালে নিহত হয় ৬৩ জন, আহত হয় ৫৬৫৮ জন, গ্রেপ্তার হয় ৮০৬ জনকে। ১৯৯৬ সালের ৩১ মার্চ থেক ২০০০ সালের ১২ জুন পর্যন্ত সারা দেশে ২৮৩ বার হরতালি পালিত হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ১৩০ দিন হরতাল পালিত হয়।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে নিহত প্রায় ৪৫ জন, আহত ৩৭২৭ জন, গ্রেপ্তার প্রায় ৩৫৩০ জন। ২০০৯-২০১৩ সালে ৩৫ দিন হরতাল হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন ও ৫ জানুয়ারির (২০১৪) নির্বাচন বাতিলের দাবিতে টানা প্রায় ২ মাস (৬০ দিন) অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয় সেই সময়।

বাংলাদেশের প্রেস ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় বলা হয়, ১৯৪৭-২০০০ পর্যন্ত ৫২ বছরে ১২১৪টি হরতালের ৮৪টি হরতাল বাদে ১১৩০টি হরতাল হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশে। এর অর্থ স্বাধীনতার ৩০ বছরে ৩ বছরের বেশি কেটেছে হরতালে।

২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে টানা তিনমাস চলা অবরোধে প্রাণ হারায় দুই শতাধিক। অফিসে, স্কুল-কলেজে যেতে না পেরে, ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমে আসলে মানুষ মরিয়া হয়ে পরে। সরকারও প্রশাসনিক সবছে উপায় অবলম্বন করে মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়। ধীরে ধীরে মানুষের মনে সাহস সঞ্চারিত হয়। অনেক আত্মত্যাগের পরে ২০১৫ সালে জানুয়ারি মাস হতে হরতাল অবরোধের প্রভাব কমতে শুরু করে । সর্বশেষ ২০১৬ সালে হরতাল কিংবা অবরোধ হয়নি।

দেশে হরতাল সংস্কৃতি না থাকলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য কতখানি বেগবান হয় তার উদাহরণ হতে পারে ২০১৬ সাল।  কোনধরনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা না থাকায়, বাংলাদেশ ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ ৭.১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে।

হরতাল কীভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বিদায় নিচ্ছে, জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার ঢাকাটাইমসকে বলেন, রাজনীতি প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসাবে এখন আর হরতালের কোন গুরুত্ব নেই। কারণ হরতাল আর এখন কেউ পালন করে না। একটি কারণ হল প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দল হরতাল মোকাবেলায় পেশিশক্তি প্রদর্শন করে। আবার ন্যায্য দাবিতে হরতাল হলেও মানুষ এটা এখন আর পালন করে না। তাই প্রতিবাদের ভাষা হিসাবে রাজনীতিবিদের ভিন্ন কৌশল নিতে হবে।

বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, এখনকার হরতালে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন নেই বলেই জনগণ তাতে সমর্থন দেয় না। যে হরতালে জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আছে তা জনগণ অবশ্যই পালন করে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্ণেল (অব.) ফারুক খান ঢাকাটাইমসকে বলেন, হরতাল অবশ্যই কার্যকর হবে যদি সেটা জনগণের ইচ্ছার পক্ষে হয়। বিগত আটবছর ধরে বিএনপি-জামায়াত নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থে হরতাল দিয়েছে। জনগণ তাদের এসব হরতাল কেন সমর্থন করবে?

সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী ফারুক খান বলেন, অতীতে দেখা গেছে জনগণ আওয়ামী লীগের ডাকে সাড়া দিয়ে হরতাল সফল করেছে। কারণ আওয়ামী লীগ জনগণের স্বার্থে হরতাল দিয়েছিল।

তিনি বলেন, জনগণ হরতালে সাড়া না দেয়ার আরেকটা কারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। আর তাই তাদের অর্থনীতের ক্ষতি হবে এমন কর্মসূচি তারা পালন করবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>