সর্বশেষ ব্রেকিংঃ-
Home » নির্বাচনী » শেষ দিন পর্যন্ত সৃষ্টিশীল থাকাই জীবনের লক্ষ্য : ইউনূস
capture

শেষ দিন পর্যন্ত সৃষ্টিশীল থাকাই জীবনের লক্ষ্য : ইউনূস

শেষ দিন পর্যন্ত সৃষ্টিশীল থাকাই জীবনের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল রোববার রাতে ঢাকায় ইউনূস সেন্টার থেকে পাঠানো বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের বিশাখাপত্তমে অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত সিম্পোজিয়ামে ড. ইউনূস এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির ৯০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তির দশম বার্ষিকী উপলক্ষে এর আয়োজন করা হয়।

এখানে বৃদ্ধ বয়সের সমস্যা নিয়ে বলতে গিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘বিষয়টা আসলে বৃদ্ধদের দেখাশোনা করার নয়; বরং সমাজের মঙ্গলের জন্য তারা যেসব বিষয়ে কাজ করতে ভালোবাসে, সেসব বিষয়ে তাদের কাজ করার ও সৃষ্টিশীল থাকার সুযোগ করে দেওয়ার।’

ড. ইউনূসের মতে, ‘অবসর’ শব্দটিকেই বরং অবসরে পাঠানো উচিত। একজন তরুণ বা বৃদ্ধ তার জীবনের যেকোনো সময়ে উদ্যোক্তা হতে পারে। মনস্তাত্ত্বিকভাবে ক্ষতিকর ‘অবসর’ শব্দটি ব্যবহার না করে তিনি বরং একে জীবনের ‘দ্বিতীয় পর্ব’ বলতে চান। জীবনের প্রথম পর্বের পর কেউ তার পছন্দমতো যেকোনো সময়ে সমাজের মঙ্গলের জন্য জীবনের অর্জনগুলো কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় পর্বটি শুরু করতে পারে। চাকরি না খুঁজে বরং চাকরি সৃষ্টি করে একজন তরুণও এ কাজ করতে পারে।

ইউনূস বলেন, ‘নতুন নতুন সামাজিক ব্যবসাকে অর্থায়ন করার এখনই উপযুক্ত সময়। পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকায় এখনই এ নিয়ে কাজ শুরু হয়ে গেছে।’ তিনি ভারতের ব্যাঙ্গালুরু ও মুম্বাইয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত দুটি সুনির্দিষ্ট সামাজিক ব্যবসা তহবিলের কথা উল্লেখ করেন। পৃথিবীতে সম্পদ কেন্দ্রীকরণের ভয়াবহ প্রবণতাকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিতে তরুণ সামাজিক উদ্যোক্তারা এভাবেই ব্যাপকভাবে এগিয়ে আসতে পারে।

ড. ইউনূস আরো বলেন, প্রতিটি মানুষই জন্মগতভাবে একজন উদ্যোক্তা এবং অর্থায়ন কখনোই কারো কর্মোদ্দীপনায় সমস্যা হওয়া উচিত নয়। তিনি তাঁর তিন শূন্যের তত্ত্ব, অর্থাৎ শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ, যা এই সিম্পোজিয়ামের মূল বিষয়বস্তু—তা বিশদভাবে তুলে ধরেন।

গতকাল বিকেলে অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ক গবেষণা কেন্দ্র ইউনূসকে অভ্যর্থনা দেয়। এ উপলক্ষে তিনি সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করা নিয়ে কথা বলেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, এই কেন্দ্রের পণ্ডিতদের গবেষণাগুলো সার্কের সর্বজনীন লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করবে।

অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর নাগেশ্বর রাও ও প্রফেসর ইউনূসের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ইউনূস সামাজিক ব্যবসা কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রফেসর ইউনূস পরামর্শ দেন যে, কেন্দ্রটি গবেষণা পরিচালনা করা ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে সামাজিক ব্যবসা সৃষ্টি করতে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিতে পারে। প্রফেসর নাগেশ্বর রাও এতে সম্মত হন এবং কেন্দ্রটি নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা প্রফেসর ইউনূসকে অবহিত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>