Home » জাতীয় » ইসলামী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট বন্ধের হিড়িক
18

ইসলামী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট বন্ধের হিড়িক

গণজাগরণ মঞ্চ থেকে যুদ্ধাপরাধী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তালিকায় নাম আসার পর বড় ধরনের সঙ্কটে পড়েছে ইসলামী ব্যাংক।

বিভিন্ন শাখার গ্রাহকদের টাকা তোলার হিড়িক, বিভিন্ন স্থানে হামলায় পড়ার পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও এই ব্যাংকের এলসি নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এই পরিস্থিতিতে অস্তিত্ব রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাহায্য চেয়েছে ৩০ বছর পুরনো ইসলামী ব্যাংক, জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগ ওঠায় যে ব্যাংকের ওপর নজর রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকেরও।

যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থেকে আন্দোলনের সূচনা পর্বে দাবি ওঠে, যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ধ করে দিতে হবে। ইসলামী ব্যাংকসহ প্রতিষ্ঠানগুলো বর্জনের ডাকও দেয়া হয়।

এই আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ার পর নেত্রকোনায় বিপুল সংখ্যক গ্রাহক তাদের আমানতের টাকা তুলে নেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় গ্রাহকদের টাকা তুলে নেয়ার পরিমাণও আগের চেয়ে বেড়েছে বলে অনুসন্ধানে দেখা গেছে।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান প্রশ্নের উত্তরে হিসাব বন্ধের ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিতে চাননি।

তিনি বলেন, “আমানত তোলা ও জমা দেয়া, হিসাব খোলা বা বন্ধ করা একটি নিয়মিত বিষয়। আজ বিকালেও দেখলাম চলতি মাসের এ কদিনে যে পরিমাণ হিসাব বন্ধ হয়েছে, তার দ্বিগুণ নতুন হিসাব খোলা হয়েছে। ফলে বিশেষ কোনো কারণে হিসাব বন্ধ হচ্ছে- তা আমি বলব না।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তার লেখা একটি চিঠি হাতে এসেছে, যাতে সার্বিক পরিস্থিতিতে ইসলামী ব্যাংকের উদ্বিগ্ন অবস্থার প্রকাশ ঘটেছে।

গত কয়েকদিনে ব্যাংকটির নেত্রকোনা, খুলনা, কক্সবাজার, সুনামগঞ্জ, চাঁদপুর, চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন শাখা ভাংচুর করেছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে এটিএম বুথও ভাংচুর করেছে জনতা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং বেসরকারি ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, অনেকেই তাদের কাছে ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যত জানতে চাইছেন।

গভর্নর আতিউর রহমানের কাছে পাঠানো ইসলামী ব্যাংকের ওই চিঠিতে সঙ্কট থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাহায্য চাওয়া হয়েছে।

আবদুল মান্নান ওই চিঠিতে লিখেছেন, “সাম্প্রতিক কিছু নেতিবাচক প্রচারণার জের ধরে গত কয়েকদিনে আমাদের কয়েকটি শাখা ও এটিএম বুথে হামলা ও ভাংচুর করা হয়েছে।

“এ ধরনের ঘটনা ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকদের নিরাপত্তাহীনতা ও জনমনে আস্থার সঙ্কট তৈরি এবং বাংলাদেশের সুশৃঙ্খল ব্যাংকিং ব্যবস্থার সুনাম ও দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।”

“দেশের ব্যাংকিং খাতের সুযোগ্য অভিভাবক হিসেবে উপরোক্ত বিষয়ে সদয় পদক্ষেপ এবং আমাদের ব্যাংকের করণীয় বিষয়ে আপনার সদয় নির্দেশনা কামনা করছি,” লেখা হয় চিঠিতে।

গণজাগরণ আন্দোলনে চিহ্নিত হওয়ার পর ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের গ্রাহকরা আমদানি-রপ্তানিতে জটিলতায় পড়ার কথা জানিয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের উদ্ধৃত করে বিজিএমইএ সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন জানান, ওয়ালমার্টসহ পোশাক আমদানিকারক নামি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংক অব আমেরিকাসহ কয়েকটি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন করতে চাচ্ছে না।

“এসব প্রতিষ্ঠান বলতে চাচ্ছে, ব্যাংকটির সঙ্গে জঙ্গি সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে হঠাৎ করে এত বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ক্রেতারা সম্পর্ক ছিন্ন করলে পোশাক রপ্তানি খাত সমস্যায় পড়বে।”

এই বিষয়টি নিয়ে পোশাক খাতের প্রধান তিনটি সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করে লিখিত আবেদনও দেন সংগঠনগুলোর নেতারা।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, “আমরা বিষয়টি সমাধানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করেছি।”

ইসলামী ব্যাংকও নিজস্ব উদ্যোগে এই সঙ্কট সমাধানের চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।

ইসলামী ব্যাংকের এমডি আবদুল মান্নান বলেন, “আমরা বিশ্বের অনেক ব্যাংকের সঙ্গেই ব্যবসা করি। কোন ব্যাংকের সঙ্গে একটু আধটু সমস্যা হতেই পারে। এটা উদ্বেগের কিছু নয়।”

তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সহায়তা চেয়েছেন কেন- প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সহযোগিতা চাইনি। স্বাভাবিক নিয়মে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সবসময় কথা হচ্ছে, এটা তারই অংশ।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>